যুক্তরাষ্ট্রে পাইকারি পণ্যের দামে উল্লম্ফন

যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি পৌঁছার আগের ধাপ অর্থাৎ পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বেড়েছে।

গত সপ্তাহে দেশটির শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, জানুয়ারিতে উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ডিসেম্বরের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। খবর এপি।

তথ্য বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টসেটের জরিপ অনুযায়ী, অর্থনীতিবিদরা এর আগে জানুয়ারির পিপিআই মাসিক ভিত্তিতে দশমিক ৩ শতাংশ এবং বার্ষিক ১ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তবে প্রকৃত তথ্য সে পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে।

খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যের দাম অস্থির থাকায় তা বাদ দিয়ে হিসাব করা পাইকারি মূল্য গত ডিসেম্বরের তুলনায় দশমিক ৮ শতাংশ এবং গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। দুটি হারই বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের পাইকারি বাজারে এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে সেবামূলক খাতের ব্যয় বৃদ্ধি। বিশেষ করে খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের মুনাফার হার বা প্রফিট মার্জিন বেড়ে যাওয়া এর অন্যতম কারণ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ঊর্ধ্বগতি একটি স্পষ্ট সংকেত যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের অতিরিক্ত বোঝা কোম্পানিগুলো এখন সাধারণ ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।

প্যানথিয়ন ম্যাক্রোইকোনমিকসের প্রধান মার্কিন অর্থনীতিবিদ স্যামুয়েল টম্বস এক পর্যবেক্ষণে লিখেছেন, ‘গত কয়েক মাসে খুচরা বিক্রেতাদের শুল্ক পরিশোধের পরিমাণ সামান্য কমলেও তারা পণ্যের বিক্রয়মূল্য বাড়ানো অব্যাহত রেখেছে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বরের তুলনায় খাদ্য ও জ্বালানি বাদে পণ্যের দাম দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে এবং আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। প্রসাধনসামগ্রী, পোষা প্রাণীর খাবার, নির্দিষ্ট কিছু ধাতু ও ধাতু কাটার যন্ত্রপাতির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।

আরও